বিহারের মুজফফরপুরে ভোররাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে বিধ্বংসী আগুন লেগে চরম বিপর্যয় ঘটল। ধোঁয়ায় দম আটকে এবং আগুনে পুড়ে অন্তত পাঁচজন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় দগ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও ২০ জনেরও বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টে নাগাদ ব্রহ্মপুরা এলাকার প্রখ্যাত প্রসাদ হাসপাতালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎই হাসপাতালের চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং রোগীদের আর্তনাদ শুরু হয়। আগুন লাগার খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দা এবং হাসপাতালের কর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তাঁরা আইসিইউ-এর জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং একের পর এক রোগীকে বাইরে বের করে আনেন। তাঁদের এই তৎপরতার কারণেই বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পরে দমকলের আটটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকল আধিকারিক আর এন পাণ্ডে জানান, খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়। আইসিইউ তখন বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। সেখান থেকে কুড়ি জনেরও বেশি রোগীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পাঁচজনকে বাঁচানো যায়নি।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আহতদের গ্রিন করিডোর করে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। জেলাশাসক সুব্রত কুমার সেন পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় আইসিইউ-তে ১৫ জনের মতো রোগী ভর্তি ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃতদের পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।


