উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার গোবর্ধন এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের আড়ালে তরুণীদের সঙ্গে প্রতারণা, শারীরিক নির্যাতন এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ধর্মগুরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে বহু শিক্ষিত তরুণীর বিশ্বাস অর্জন করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম অভিষেক মিশ্র। তিনি উচ্চশিক্ষিত এবং পেশায় একজন প্রকৌশলী। তবে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় বক্তৃতা, ভজন-কীর্তন ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন। বিশেষ করে কলেজপড়ুয়া ছাত্রী এবং কর্মজীবী মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত ছত্তীসগঢ়ের এক নার্সিং ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ থেকে। তরুণী সম্প্রতি নিজের জন্মদিন উপলক্ষে মথুরায় এসেছিলেন। সেখানে তাঁর দিদির সঙ্গে দেখা করতে যান। অভিযোগ, ওই সময় অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। পরে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় তরুণীকে প্রসাদ বলে একটি পানীয় দেওয়া হয়। সেটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না।
পরিবারের দাবি, সেই সুযোগেই তাঁর সঙ্গে গুরুতর অপরাধমূলক কাজ করা হয়। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় পরিবার প্রথমে চুপ থাকলেও পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ভিডিও কলের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসে। পুলিশ মনে করছে, একই কৌশলে আরও একাধিক তরুণীকে ফাঁদে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। অভিযুক্ত গোপনে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলি ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন বলে সন্দেহ। সেই অর্থ দিয়ে সম্পত্তি কেনা এবং একটি আশ্রম গড়ে তোলার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অবশেষে অভিযুক্তকে তাঁর বাসস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে দুই তরুণী ও এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও তাঁর মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আপত্তিকর নথি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং অন্য কোনও ভুক্তভোগী রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।


