ভারতে আর্থিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় চাপ বেড়েছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির উপর। তারই মধ্যে ভারতের আর্থিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় সোনা ও গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা রাজেশ এক্সপোর্টসকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগ।
সম্প্রতি শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি সংস্থাটির বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজেশ এক্সপোর্টস এবং সংস্থার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ মেহতাকে পুঁজিবাজারে কোনও ধরনের কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
সেবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, কয়েক বছরের আর্থিক হিসাবপত্রে সংস্থার আয়ের তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের আয় এমনভাবে দেখানো হয়েছে যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়টি সামনে আসতেই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু আয়ের হিসাব নয়, কিছু লেনদেন নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে সেবি। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, নির্দিষ্ট কয়েকটি আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না। পাশাপাশি সংস্থার তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বহু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে সংস্থার আর্থিক দায়। রাষ্ট্রায়ত্ত কানারা ব্যাঙ্কের কাছ থেকে নেওয়া কয়েকশো কোটি টাকার ঋণ এখনও বকেয়া রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় ঋণটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ব্যাঙ্ক। পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য বিকল্প পথও খুঁজছে তারা।
এদিকে দেশের বৃহত্তম জীবনবিমা সংস্থা LIC-র এই কোম্পানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে সংস্থার আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে তার প্রভাব পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ পলিসিধারীর স্বার্থের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। যদিও LIC এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।
রাজেশ এক্সপোর্টসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি সংস্থাটির বিরুদ্ধে দেউলিয়া সংক্রান্ত একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। ফলে কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব। চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতার দাবি, তদন্তকারী সংস্থার পর্যবেক্ষণে একাধিক ভুল রয়েছে। তাঁর কথায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
ঘটনার পর শেয়ার বাজারে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগকারী, ঋণদাতা সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের নজর এখন এই বহুল আলোচিত মামলার দিকেই।


