ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আরও একধাপ এগোল কেন্দ্র সরকার। দেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হল E85 জ্বালানি। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার আবহে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার দিল্লিতে একটি IndianOil রিটেল আউটলেটে গিয়ে নিজে গাড়িতে E85 পেট্রোল ভরে এই জ্বালানির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। কেন্দ্রের দাবি, E85 ব্যবহারের ফলে আমদানিকৃত জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে, পাশাপাশি গ্রাহকদের খরচও হ্রাস পাবে।
E85 হল উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি। এতে ইথানলের পরিমাণ থাকে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ এবং পেট্রোল থাকে ১৪ থেকে ১৯ শতাংশ। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত E20 পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ মাত্র ২০ শতাংশ। ফলে E85 ইথানল ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, আপাতত E85 পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৮২.১২ টাকা রাখা হয়েছে, যা সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় কম। দেশের ৮৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত ফুয়েল স্টেশনে এই জ্বালানি পাওয়া যাবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেই সংখ্যা ৫০০ এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫,০০০-এ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে E85 জ্বালানি চালুর সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতির অভিযোগ উঠছিল। ফলে আরও বেশি মাত্রার ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির ক্ষতি হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতের রাস্তায় চলা অধিকাংশ গাড়িই E85 ব্যবহারের উপযোগী নয়। শুধুমাত্র Flex-Fuel Vehicle (FFV) বা Flex-Fuel সক্ষম যানবাহনেই এই জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে Hero Splendor+ Flex Fuel এবং Hero HF Deluxe Flex মোটরসাইকেল E85 ব্যবহারের উপযোগী। চারচাকার গাড়ির মধ্যে Maruti Suzuki WagonR Flex Fuel এই জ্বালানি গ্রহণ করতে সক্ষম। টাটা মোটর্স-সহ অন্যান্য সংস্থাও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির গাড়ি বাজারে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে।
সাধারণ গাড়িচালকদের উদ্বেগ দূর করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ গাড়ির জন্য E20 পেট্রোলই যথেষ্ট। E85 চালু হওয়ায় পুরনো বা সাধারণ পেট্রোলচালিত গাড়ি অচল হয়ে যাবে—এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। যে সব যানবাহন E85 ব্যবহারের উপযোগী, শুধুমাত্র সেগুলিতেই এই জ্বালানি ব্যবহার করা হবে। পেট্রোল পাম্পেও সেই সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা ও চিহ্ন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব বিকল্প এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


