২০১৮ সালের বর্ষবরণ উৎসবে ক্ষমতার দম্ভে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এক নিরপরাধ মহিলার মৃত্যুর মামলায় অবশেষে দোষী সাব্যস্ত হলেন বিহারের সাহেবগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রাজু কুমার সিং। দিল্লির একটি বিশেষ আদালত এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অপরাধ প্রমাণ করেছে। বারবার দলবদল করে ক্ষমতার অলিন্দে টিকে থাকা এই নেতার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন অর্চনা গুপ্তা নামে এক সাধারণ নারী। আদালতের এই রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই জোর ধাক্কা খেল শাসকদল বিজেপির ‘সুশাসনের’ দাবি।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, গেরুয়া শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের একাংশ আইন ও সাধারণ মানুষের জীবনকে কতটা সস্তা মনে করেন। একটি জনাকীর্ণ পার্টিতে যেখানে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন, সেখানে একজন দায়িত্বশীল বিধায়ক কীভাবে নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করে একের পর এক গুলি চালাতে পারেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালতও। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরণের ‘প্রভাবশালী’ আচরণ সমাজের বুকে এক ব্যাধি। আত্মরক্ষা বা খেলার জন্য দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সকে যেভাবে আনন্দের নামে ক্ষমতার আস্ফালন দেখাতে ব্যবহার করা হয়েছে, তা বিজেপি নেতার বেপরোয়া মনোভাবকেই জনসমক্ষে নিয়ে আসে।
৫৬ বছর বয়সী রাজু কুমার সিং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে জেডিইউ, এলজেপি এবং ভিআইপি দলের হাত ঘুরে বর্তমানে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক পদের সুবিধা ভোগ করছেন। যদিও এই মামলায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছিল বিধায়কের স্ত্রী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে, কিন্তু প্রভাবশালী যোগসূত্রের কারণে সরকারি পক্ষ সেই তথ্যপ্রমাণ নষ্টের ধারাটি আদালতে অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে মূল অপরাধে বিজেপি বিধায়ক দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আগামী ৯ জুন তাঁর কী সাজা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


