কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার বামনহাট ব্লকের পোয়াতুর কুটির গ্রামে এক ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার গুরুত্ব ও পরিবারের অসহায়তার কথা জানতে পেরে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বামনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি এবং বিশিষ্ট বাম নেতা অলকেশ দাস। তাঁদের সঙ্গে এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষ এবং বাম কর্মী-সমর্থকরাও ওই ছাত্রীর বাড়িতে ভিড় জমান। মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা সমবেদনা জানান এবং এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পোয়াতুর কুটির গ্রামের বাসিন্দা ওই নাবালিকা ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পিছনে কোনও নৃশংস অপরাধ বা নির্যাতন লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন গ্রামবাসী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। মৃত ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে মীনাক্ষী মুখার্জি এবং অলকেশ দাস পরিবারের লোকেদের পাশে থাকার সম্পূর্ণ আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঠিক, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নারী নিরাপত্তার অভাব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ।
মীনাক্ষী মুখার্জি স্পষ্ট জানান যে, দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। অলকেশ দাসও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত আসল সত্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রত্যন্ত এই গ্রামীণ এলাকায় এক নাবালিকার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গোটা পোয়াতুর কুটির গ্রাম এখন ফুঁসছে।


