Thursday, July 30, 2026
29.9 C
Kolkata

গুলিকাণ্ড মামলায় বড় স্বস্তি খান স্যারের, আপাতত গ্রেপ্তারিতে স্থগিতাদেশ দিল পাটনা আদালত

জনপ্রিয় ইউটিউবার ও শিক্ষক ফৈজল খান, যিনি ‘খান স্যার’ নামে বেশি পরিচিত, তিনি আপাতত বড় আইনি স্বস্তি পেলেন। পাটনার একটি কোচিং সেন্টারকে ঘিরে হওয়া গুলিকাণ্ডের মামলায় তাঁকে এখনই গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে জেলা আদালত। মঙ্গলবার মামলার শুনানির পর এই নির্দেশ দেন বিচারক।

কয়েকদিন ধরেই এই ঘটনাকে ঘিরে বিহারের শিক্ষা মহল ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে খান স্যারের নামও মামলায় জড়িয়ে পড়ে। এর পরেই সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি এবং আগাম জামিনের আবেদন জানান।

মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানি হয়। আদালত জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা খান স্যারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তবে তদন্ত চলাকালীন তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

বিচারক তদন্তকারী সংস্থাকে মামলার সমস্ত নথি, তথ্যপ্রমাণ এবং কেস ডায়েরি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তার উপরই মামলার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। পাটনার মুসল্লাহপুর হাট এলাকায় অবস্থিত খান স্যারের কোচিং প্রতিষ্ঠানের বাইরে হঠাৎই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত অশান্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষের খবর সামনে আসে। সেই সময় গুলিও চলেছিল বলে অভিযোগ। ঘটনায় এক নিরাপত্তারক্ষী আহত হন।

এই ঘটনার পর বহু ছাত্রছাত্রী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমদিকে খান স্যার দাবি করেছিলেন, তাঁর জনপ্রিয়তা এবং কম খরচে পড়ানোর কারণে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। সেই কারণেই তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে তদন্তের সময় কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তুলে দেয়। তাঁদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালীন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই তথ্য সামনে আসার পর গত ৫ জুন খান স্যারের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই মামলার তদন্তে গতি আসে এবং তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু করে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

Hot this week

ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় স্কুল ড্রেসে নতুন নিয়ম, বর্ষার ছয় মাস পা ঢেকে রাখতেই হবে

ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে সরকারি স্কুলের ইউনিফর্মে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত...

অসমে বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃত বেড়ে ৭৫, ক্ষতিগ্রস্থ ৩ লক্ষের বেশি

অসমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।...

‘এই নর্দমার প্রজন্মকে জন্ম দিচ্ছে কারা?’ নিট আন্দোলনকারী জেন জি- দেরকে নিশানা কঙ্গনার

কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী...

দলিত নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মধ্যপ্রদেশে গ্রেফতার ২ পুলিশ কনস্টেবল

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক দলিত নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের...

Topics

ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় স্কুল ড্রেসে নতুন নিয়ম, বর্ষার ছয় মাস পা ঢেকে রাখতেই হবে

ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে সরকারি স্কুলের ইউনিফর্মে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত...

অসমে বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃত বেড়ে ৭৫, ক্ষতিগ্রস্থ ৩ লক্ষের বেশি

অসমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।...

‘এই নর্দমার প্রজন্মকে জন্ম দিচ্ছে কারা?’ নিট আন্দোলনকারী জেন জি- দেরকে নিশানা কঙ্গনার

কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী...

দলিত নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মধ্যপ্রদেশে গ্রেফতার ২ পুলিশ কনস্টেবল

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক দলিত নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের...

পাঁচ বছরে দেশে কমেছে ১৭ হাজারের বেশি সরকারি স্কুল, সংসদে কেন্দ্রের তথ্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

দেশজুড়ে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া...

Related Articles

Popular Categories