রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের সম্পর্ক। দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠককে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক সাক্ষাৎ এবং আলোচনার পর থেকেই নানা জল্পনা ছড়াতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিক বৈঠক রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, বিরোধী জোটের বৈঠকের পাশাপাশি কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সাক্ষাৎ এবং পরদিন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে কি তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে হাঁটছে? যদিও এ বিষয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবুও দিল্লির বৈঠকগুলি নিয়ে আলোচনা থামছে না।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানও এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও দলের সঙ্গে বৈঠক করতেই পারে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং আলোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অংশ।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। মান্নানের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে বারবার অবস্থান বদলের কারণে মমতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি যে রাজনৈতিক পথই বেছে নিন না কেন, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে একাধিক নেতা, বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধির দলত্যাগ নিয়েও সরব হয়েছেন মান্নান। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের কিছু রাজনৈতিক ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, একসময় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার যে অধ্যায় শুরু হয়েছিল, আজকের পরিস্থিতি যেন তারই অন্য এক প্রতিচ্ছবি।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিকভাবে বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ করছে, বিরোধীরা বলছে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নেতাদের অবস্থানও বদলাতে পারে। সব মিলিয়ে দিল্লির বৈঠকের পর রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার আবহ আরও জোরালো হয়েছে।

