কেরলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেরল বিশ্ববিদ্যালয়, মহাত্মা গান্ধী (এমজি) বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালয়ালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পর কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তিদের এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া উচিত হয়নি। তাঁর মতে, এই পদে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে তাঁদের এই পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উপাচার্যদের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। তিনি মনে করেন, রাজ্যের মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সব সময় রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন।
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়নও। তিনি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই কেরলের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁর আশঙ্কা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের দিকে পরিচালিত করার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। উপাচার্যদের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, এই বিতর্ককে ঘিরে শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক মহলেও নানা মত সামনে আসছে। একাংশের মতে, কোনও সাংস্কৃতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে অন্যদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তাই তাঁদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত উপাচার্যদের পক্ষ থেকে এই বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে।
কেরলের শিক্ষাক্ষেত্র বরাবরই স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও প্রগতিশীল ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্তাদের কোনও পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলের।


