বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার লক্ষ্যে গঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি জোটের বৈঠকে ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই বক্তব্যের কিছুদিনের মধ্যেই জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক ডিএমকে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সমালোচনায় সরব হয়েছে।ডিএমকের মুখপত্র ‘মুরাসোলি’-তে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওই লেখায় সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিরোধী জোটের মধ্যে যে দূরত্ব ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তার জন্য দায়ী কে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের ভূমিকাও সেখানে কঠোর ভাষায় সমালোচিত হয়েছে।গত ৮ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মতবিরোধ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সমালোচনা ও অভিযোগকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকলে জোট আরও শক্তিশালী হতে পারে।এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একটি পৌরাণিক উদাহরণও টেনেছিলেন। সেই উদাহরণকে কেন্দ্র করেই ডিএমকের মুখপত্রে পাল্টা মন্তব্য করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যে কাহিনির উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে বিষের উৎপত্তি অন্য কারণে হয়েছিল এবং পরে তা থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে ডিএমকে প্রশ্ন করেছে, যদি জোটের মধ্যে আজ সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে, তবে তার সূচনার জন্য কারা দায়ী।এতেই থেমে থাকেনি ডিএমকে। তাদের দাবি, বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে কংগ্রেস অতীতে একাধিক ভুল করেছে। বিভিন্ন রাজ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভেঙে যাওয়ার পেছনেও কংগ্রেসের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে এখন ঐক্যের আহ্বান জানালেও তা অনেকের কাছে দেরিতে আসা বার্তা বলে মনে হতে পারে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিএমকের এই অবস্থান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। যদিও জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিচ্ছেদের ইঙ্গিত মেলেনি, তবুও শরিকদের মধ্যে এই ধরনের প্রকাশ্য মতভেদ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Popular Categories


