দেশে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস এবং সোনা-রুপোর দাম বৃদ্ধির প্রভাব এখন সব ক্ষেত্রেই পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) তাদের নীতি সুদের হার বা রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন আনেনি। বুধবার অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, রেপো রেট আগের মতোই ৫.২৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে।
আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, কিছু ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এখনও ৫ শতাংশের নিচে নামেনি। তাঁর মতে, এর প্রধান কারণ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম। এই দুই ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
গভর্নর বলেন, চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে মূল মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বাড়তে পারে। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির বাজার নিয়ে এখনই স্বস্তির কোনও বার্তা দেওয়া সম্ভব নয়। বরং এই দুই খাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও কিছুদিন থাকতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা মরগ্যান স্ট্যানলিও তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী দিনেও ভারতে মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকবে। বিশেষ করে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সংসারের খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।
আরবিআই গভর্নর স্বীকার করেছেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপরও পড়ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম। অর্থাৎ আপাতত রেপো রেট কমছে না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের পর থেকে প্রতিটি মুদ্রানীতি বৈঠকেই রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সুদের হারও ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। এখনও তা আগের স্তরে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
রেপো রেট কমলে ব্যাঙ্ক ঋণের সুদ কমে এবং গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণের মাসিক কিস্তির চাপও কিছুটা হালকা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা পাচ্ছেন না ঋণগ্রহীতারা।
সঞ্জয় মালহোত্রা আরও বলেন, খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত এবং সঠিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতিও দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাই আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে আরবিআইয়ের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত।


