ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মাঝে নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি। লেবাননে রাতভর চালানো হামলায় অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এর পরেই দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।ইজরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর একাধিক হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ বারবার পূর্ববর্তী সমঝোতা ভঙ্গ করেছে। সর্বশেষ রাতে চালানো এক হামলায় চার ইজরায়েলি সেনা নিহত হন। সেই ঘটনার পরই ইজরায়েল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায়।ঘোষণা অনুযায়ী স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরও কিছু এলাকায় গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।এই যুদ্ধবিরতিকে চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সামরিক অভিযান দ্রুত ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইজরায়েল কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেনি। আইডিএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তার জন্য যেকোনও তাৎক্ষণিক হুমকি তারা মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ যদি কোনও ধরনের চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে তার জবাবও দেওয়া হবে।অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তির কোনও শর্ত ভঙ্গ হলে তার দায় শুধু সংশ্লিষ্ট পক্ষের নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও বহন করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তেহরান এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, প্রতিটি ছোট ঘটনার জবাবে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি চান না যে বহু আলোচনার পর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নতুন সংঘাতের কারণে ভেঙে পড়ুক।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে নেতানিয়াহু এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। একদিকে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রত্যাশাও পূরণ করতে হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েকদিন এই যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর থাকে, তার ওপরই নির্ভর করবে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলও লেবানন সীমান্তের পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে।
Popular Categories


