রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলায় আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পর এক যুবককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনায় বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ দেখা দিয়েছে।
নবীন চৌধুরী নামে ২৫ বছরের এক যুবক ২০ জুন ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তিনি ‘ঝুনঝুনু এক্সপ্রেস’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করেন, যেখানে মূলত এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক বিষয় তুলে ধরা হয়। ওই ভিডিওতে একটি মাঠে দুই দলের শিশুদের দেখা যায়। একদল খেলাধুলায় ব্যস্ত ছিল, অন্যদিকে আরএসএসের শারীরিক প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম চলছিল।
ভিডিওতে নবীন বলেন, মাঠে ঘাম ঝরিয়ে খেলাধুলা করা শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। অন্যদিকে কিছু শিশুদের মধ্যে ধর্ম ও ঘৃণার বীজ বপন করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের শিক্ষা ভবিষ্যতে সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই তাঁর কাছে হুমকির ফোন আসতে শুরু করে বলে দাবি নবীনের। তাঁর অভিযোগ, পরদিন সকালে কয়েকটি পুলিশ গাড়ি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। পথে তাঁকে মারধরও করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। থানায় তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় কাউকে যোগাযোগ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঝুনঝুনু কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রবণ কুমার মীল জানান, সমাজে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭০ ধারায় নবীনকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনকে লক্ষ্য করে নয়, সামাজিক শান্তি বজায় রাখাই পুলিশের উদ্দেশ্য। মারধরের অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নবীনের পোস্ট নিয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়েছিল। পরে তাঁকে মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় এবং জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস। রাজস্থান কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা নবীনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, সত্য কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন ওই যুবক। তাঁর দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে নবীন চৌধুরী জানিয়েছেন, চাপ বা হুমকির মুখেও তিনি জনস্বার্থে স্থানীয় বিষয় নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে প্রশ্ন তোলার অধিকার সকলের থাকা উচিত।


