ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
শুধু ভারত নয়, ইরান এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লেবানন, রাশিয়া ও চিন-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যু হলে তাঁর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে ইরানে যাবেন নাকি ভারতের পক্ষ থেকে অন্য কোনও প্রতিনিধি পাঠানো হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের ঘোষণামতে, আগামী ৪ জুলাই থেকে খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সংক্রান্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে তাঁকে সমাহিত করা হবে। মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পর এই সমাধিস্থকরণ হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রথমদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বড় আকারের জনসমাবেশ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ইরানি প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, বিপুল মানুষের উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। সেই কারণেই শেষকৃত্যের আয়োজন পিছিয়ে যায় বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে শেষকৃত্যের আয়োজন নিয়ে ইরান এখন অনেকটাই আশ্বস্ত। তবে খামেনেইয়ের মৃতদেহ বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। এই বিষয়টি ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়ালেও ইরান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।


