স্কুলের পাঠ্যবইয়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে উপস্থাপিত বিষয়বস্তুকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে কর্ণাটকে। অভিযোগ উঠেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির একটি পাঠ্যপুস্তকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে শুধু নিরামিষ খাবারকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর জেরে শিক্ষাক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও বিরোধী মহল।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি অধ্যায়, যেখানে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে যে সব খাদ্যের ছবি ও উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রুটি, শাকসবজি, দুধ এবং বিভিন্ন ফল থাকলেও মাছ, মাংস বা ডিমের মতো প্রচলিত পুষ্টিকর খাবারের কোনও উল্লেখ নেই। ফলে ছাত্রছাত্রীদের সামনে এক ধরনের খাদ্যাভ্যাসকেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের মতে, দেশের বহু অঞ্চলে আমিষ খাবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সুষম খাদ্যের আলোচনা করতে গিয়ে সেই বিষয়গুলিকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে পড়ুয়াদের কাছে অসম্পূর্ণ তথ্য পৌঁছতে পারে বলেও মত তাঁদের।
শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, পাঠ্যবইয়ের অন্যান্য বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি সংগঠনের অভিযোগ, বইটিতে কর্ণাটকের স্থানীয় সংস্কৃতি, লোককাহিনি, সাহিত্য এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলের জীবনধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকও অনুপস্থিত বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও, বইটির নামকরণ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, এর পিছনে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এই বিতর্ক সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষাব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাব বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।


