রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) সম্পর্কে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের এক মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সুযোগসন্ধানী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে এবং আগের তুলনায় “ভালো মানুষের” সংখ্যা কমেছে। তাঁর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপির সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস।
শনিবার ভোপালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, আরএসএস বর্তমানে একটি বৃহৎ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, বিশেষ করে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার গঠনের পর বহু মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন।
বিজয়বর্গীয় আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর মনে হয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই নিজেদের আরএসএস-সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁর মতে, কোনও সংগঠনের বিস্তার এবং মতাদর্শের প্রসার ইতিবাচক হলেও, সদস্যদের গুণগত মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, আগে আরএসএস-এ অনেক নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন। কিন্তু সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আদর্শকে ধারণ করার মতো মানুষের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে শুধুমাত্র সংগঠনের বিস্তার কতটা অর্থবহ, তা নিয়েও ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের এই মন্তব্যের পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। কংগ্রেস নেতা কে কে মিশ্র বলেন, ক্ষমতার সঙ্গে অনেক সময় সংগঠনের কর্মীদের চরিত্র ও আচরণে পরিবর্তন আসে এবং বিজয়বর্গীয়ের মন্তব্য সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে। তবে কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের বক্তব্য নিয়ে বিজেপি বা আরএসএসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

