অপারেশন সিঁদুর নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে যে তথ্য দিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস জমা দিয়েছে কংগ্রেস। দলের প্রবীণ সাংসদ এবং পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান কে সি বেণুগোপাল এই পদক্ষেপ করেছেন।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো চিঠিতে বেণুগোপাল অভিযোগ করেছেন, অপারেশন সিন্দুর সম্পর্কে সংসদে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসা তথ্যের মিল নেই। তাঁর দাবি, সংসদে জানানো হয়েছিল যে ওই সামরিক অভিযানে ভারতের কোনও সেনাকর্মীর মৃত্যু ঘটেনি। কিন্তু পরে সরকারি সূত্রেই জানা যায়, ওই অভিযানের সময় ছয়জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে কংগ্রেস সাংসদ দাবি করেছেন, সংসদে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়ে থাকলে তা সংসদের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই তিনি স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
বেণুগোপাল তাঁর অভিযোগপত্রের বিষয়বস্তু সামাজিক মাধ্যমেও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য কর্তব্য পালন করতে গিয়ে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ সম্মান পাওয়া উচিত। এই ধরনের ঘটনায় প্রকৃত তথ্য সামনে না এলে শহিদ পরিবারগুলিও মানসিকভাবে আঘাত পেতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। সেই সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সিন্দুর’। পরে সংসদে এই অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, অভিযানে কোনও ভারতীয় সেনা হতাহত হননি।
তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে নতুন করে কয়েকজন শহিদ সেনার নাম সংযোজন করা হয়। সেখানে অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন প্রাণ হারানো পাঁচজন সেনাকর্মী এবং একজন বায়ুসেনা সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও ওই ছয়জন সেনাকর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। এখন স্পিকার এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেন, তার দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


