রাজস্থানের বেওয়ার জেলার একটি গ্রামে তিন মুসলিম শ্রমিককে অপহরণ করে মারধরের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, সাজিদ খান, তাঁর ভাই জুনায়েদ এবং ভাইপো সাহিল একটি খনিতে যন্ত্র মেরামতের কাজ করতে গিয়েছিলেন। ওই খনির মালিকের ডাকে তাঁরা সেখানে পৌঁছন এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা পারিশ্রমিক চাইলে পরদিন এসে টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়।
অভিযোগ, সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজন ব্যক্তি একটি গাড়ি নিয়ে এসে তাঁদের পথ আটকায়। এরপর জোর করে তিনজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতিতদের বক্তব্য, হামলাকারীরা তাঁদের উদ্দেশে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে এবং ভয় দেখায়। এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি করে কিছু ধর্মীয় স্লোগান বলতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ। ভয়ে তাঁরা হামলাকারীদের কথা মেনে নিলেও মারধর বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দড়ি দিয়ে বেঁধে লোহার পাইপ ও অন্যান্য শক্ত বস্তু দিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। জুনায়েদের মাথার চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন।
এই হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আঘাতের প্রকৃতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ মেডিক্যাল পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। অপহরণ, বেআইনি আটকে রাখা, মারধর এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মামলায়। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রধান অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রথমে পুলিশের কাছে যাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও পুলিশ এই বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন মহল নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।


