মধ্যপ্রদেশের আগর মালওয়া জেলার বিখ্যাত বগলামুখী মন্দিরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। ভক্তদের দেওয়া প্রণামি এবং মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণ ও হিসাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
বগলামুখী মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বহু ভক্ত সেখানে পুজো দিতে যান। অভিযোগ, মন্দিরে প্রণামির জন্য সরকারি ব্যবস্থার বাইরে আরও একটি আলাদা পদ্ধতি চালু ছিল। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভক্তদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও সোনা-রুপোর গয়না গ্রহণ করা হতো বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এই অর্থ বা অলঙ্কারের সবকিছু মন্দিরের সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি মন্দিরের নিয়মিত হিসাব বা অডিট রিপোর্টেও তার কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বহুদিন ধরে জমা হওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সরব হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভক্তদের বিশ্বাসের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা উচিত নয়। মন্দিরের অর্থ কোথায় গেল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তার পূর্ণ তদন্ত হওয়া দরকার।
আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যদি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে তা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে আঘাত হানে। তাই সত্য সামনে আনা জরুরি।
শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, দেশের আরও কয়েকটি মন্দিরেও সম্প্রতি একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। ঝাঁসির কাছের ঐতিহাসিক রাজা রাম মন্দিরেও প্রণামির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ মন্দিরে অনিয়মের অভিযোগের জেরে এক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও সাধু-সন্তদের একাংশ দেশের বড় বড় মন্দিরগুলিতে স্বচ্ছ আর্থিক নিরীক্ষার দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, ভক্তদের দেওয়া অর্থ ও দানের যথাযথ হিসাব রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অনিয়ম থাকলে তা দ্রুত প্রকাশ্যে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মন্দিরের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র এবং ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনায় বহু ভক্তের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।


