আবারও কলকাতায় আসতে পারেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে এবার শুধুমাত্র সফর নয়, কলকাতায় একটি প্রদর্শনী ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেন তিনি। এমন সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই উচ্ছ্বসিত শহরের ফুটবলপ্রেমীরা।
সূত্রের খবর, ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের উদ্যোগে মেসির ভারত সফরের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির প্রাক্-মরসুম (Pre-season) প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে দলটি। সেই সফরে দলের সঙ্গে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মেসিরও।
যদিও এখনও পর্যন্ত এই সফর নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপ-পরবর্তী সূচি ও ক্লাবের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পরই সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। ইতিমধ্যেই শতদ্রু দত্ত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মেসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন। সূত্রের দাবি, দু’পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে, ফলে মেসির ভারত সফরের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০১১ সালের প্রথম কলকাতা সফরের মতো এবারও শহরে একটি ম্যাচ খেলতে পারেন মেসি। সেই সুযোগ হলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হবে বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের। বিশেষ করে গত সফরে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সমর্থকই প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে না পারায় যে আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই মিটতে পারে।
তবে মেসি কবে কলকাতায় আসবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, ইন্টার মায়ামির প্রাক্-মরসুম প্রস্তুতির সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেই সূচি প্রকাশের পরই ভারত ও বাংলাদেশ সফরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে ভারত সফরে এসে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই ও হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন মেসি। পরে সূচিতে পরিবর্তন এনে অনন্ত অম্বানীর আমন্ত্রণে বনতারাতেও যান তিনি। তবে কলকাতার অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে মেসিকে দ্রুত যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ছাড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে গ্যালারিতে উপস্থিত বহু দর্শকই তাঁকে কাছ থেকে দেখতে পারেননি। এরপর স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য শহরে মেসির সফর তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যতে আবার ভারতে আসার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। সেই ইচ্ছাই এবার বাস্তবের রূপ পেতে পারে বলে আশাবাদী মেসি-ভক্তরা।


