দিল্লিতে নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে হওয়া আন্দোলন শেষ হলেও তার প্রভাব এখনও কাটেনি। এবার আন্দোলনের সময় সমাজমাধ্যমে করা বিভিন্ন পোস্টের উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে করা কিছু পোস্টে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সেই ধরনের পোস্ট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যম সংস্থাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। যেসব পোস্ট আইন ভঙ্গ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে। এই কাজের জন্য দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল দিনরাত নজরদারি চালাচ্ছে। আন্দোলন শেষ হওয়ার পরেও সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন বা পুরনো পোস্ট নিয়মিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি তুলে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান শুরু করেছিল। এই আন্দোলনের প্রতি দেশের নানা প্রান্তের ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের সমর্থন দেখা যায়। সমাজমাধ্যমেও আন্দোলনের পক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ মত প্রকাশ করেন। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, মত প্রকাশের অধিকার থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। সেই কারণেই নির্দিষ্ট কিছু পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ২০ জুলাই সিজেপির ডাকা সংসদ অভিযান ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দিল্লি হাই কোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এরপর আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সেই ঘোষণার পর সিজেপিও তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে যেন আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। কেন্দ্রের কয়েকজন মন্ত্রী মৌখিকভাবে সেই আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পায়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার হয়নি।
এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, সংসদ অভিযানের সময় পুলিশ ও র্যাফ যে বলপ্রয়োগ করেছিল, তার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও সংগঠনের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে। এই দাবিগুলির বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে মৌখিক আশ্বাস মিললেও এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আন্দোলন শেষ হলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


