স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের আর স্মার্টফোন বা ট্যাব দেওয়া হবে না। তার বদলে পড়াশোনার জন্য অন্য কোনও আধুনিক সামগ্রী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে শিক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার এক অনুষ্ঠানে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জানুয়ারি মাসে এটা দেওয়া হত। শিক্ষা দপ্তরের দুই মন্ত্রী ও সচিবকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি, মোবাইল আর দেওয়া যাবে না। তার বদলে পড়াশোনার জন্য অন্য কোনও আধুনিক জিনিস দেওয়ার বিষয়টি দেখতে বলেছি।”
স্কুলপড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারের অপকারিতা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব মুখ্যমন্ত্রী। কয়েকদিন আগে তিনি অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়ারা রাত জেগে মোবাইল দেখছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের উপর। শনিবারের অনুষ্ঠানেও শিক্ষকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেন তিনি।
তৃণমূল সরকার ২০২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের স্মার্টফোন দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের আওতায় মোবাইল বা ট্যাব কেনার জন্য ছাত্রছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠানো হত।
স্মার্টফোন বা ট্যাব কেনার জন্য অন্তত ১০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে, তার বিল জমা দিতে হত পড়ুয়াদের। প্রথমে দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর এই সুবিধা দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে একাদশ শ্রেণিতেই টাকা দেওয়া শুরু হয়।
করোনাকালে অনলাইনে স্কুলের পড়াশোনা চলার সময় পড়ুয়াদের শিক্ষার সুবিধার্থে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছিল। সরকারের আর্থিক অনুদানে পরিচালিত স্কুল ও মাদ্রাসাগুলিতেও প্রকল্পটি কার্যকর হয়।
‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প ঘিরে কয়েক বছর আগে রাজ্যজুড়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
এবার পড়ুয়াদের হাতে সরাসরি স্মার্টফোন বা ট্যাব তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বিকল্প আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী দেওয়ার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে নতুন ব্যবস্থায় কী ধরনের সামগ্রী দেওয়া হবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


