নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে সোমবার লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সংশোধনী বিল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘দ্য পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ সংসদে পেশ করার পাশাপাশি একই দিন তা পাশ করানোরও চেষ্টা করবে সরকার। তবে বিরোধী দলগুলি এই বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি তুলেছে। ফলে সংসদের অধিবেশন উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারের দাবি, পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়ম রুখতে আরও কঠোর আইন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই দু’বছর আগে তৈরি হওয়া আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু আইন কঠোর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতেই হবে।
এই পরিস্থিতিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পেলেট গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর অভিযোগ, আহত কয়েকজন ছাত্রের চিকিৎসার নথি এবং তাঁদের বক্তব্যে পেলেট গুলি ব্যবহারের ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও দিল্লি পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চিঠিতে তিনি জানতে চেয়েছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি কে দিয়েছিল। পাশাপাশি সাধারণ পোশাকে যাঁদের আন্দোলনকারীদের উপর লাঠি চালাতে দেখা গিয়েছে, তাঁরা পুলিশকর্মী ছিলেন নাকি অন্য কেউ— সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিরোধী দলনেতা।
এদিকে সূত্রের খবর, পেলেট গুলি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে এমন অস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়ে মত প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। আন্দোলন মোকাবিলার সময় বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিরিক্ত বাহিনী আনা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ১০ কোম্পানি সিআরপিএফ এবং ৬ কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স দিল্লির আশপাশে মোতায়েন করা হবে।


