কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই সামাজিক মাধ্যমেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে দুই জনপ্রতিনিধির সন্তানদের পোস্টকে ঘিরে। একদিকে ওড়িশার বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা ষড়ঙ্গীর মেয়ে অর্চিতা, অন্যদিকে অসমের মন্ত্রী কেশব মহারাজের মেয়ে দিবিশা— দু’জনেই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর অর্চিতা নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পর শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর এই পোস্ট দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অর্চিতার এই পোস্ট নিয়ে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়। কারণ, ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং অপরাজিতা ষড়ঙ্গী দু’জনেই ওড়িশার রাজনীতির পরিচিত মুখ। সেই কারণে অনেকে এই পোস্টের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
এদিকে অর্চিতা পরে আরও একটি পোস্ট করে দাবি করেন, তাঁর আগের পোস্ট মুছে ফেলার জন্য চাপ আসতে পারে। তবে তিনি নিজের মত থেকে সরে আসবেন না বলেও জানান। তাঁর এই বক্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এই ঘটনার পর সাংসদ অপরাজিতা ষড়ঙ্গীর ব্যক্তিগত সচিব ধনেশ্বর বারিক বলেন, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তাঁর কথায়, নতুন প্রজন্ম অনেক বিষয়েই স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে এবং সেটিকে সেইভাবেই দেখা উচিত।
একই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছে অসমেও। সেখানকার মন্ত্রী এবং অসম গণ পরিষদের নেতা কেশব মহারাজের মেয়ে দিবিশা সম্প্রতি ছাত্রদের আন্দোলনে অংশ নেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এরপর থেকেই কেশব মহারাজকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর পাশে দাঁড়ান অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ব্যক্তিগত মত বা সিদ্ধান্তের জন্য বাবা-মাকে দায়ী করা ঠিক নয়।


