কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সোমবার প্রথমবার সংসদে উপস্থিত হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশার সম্বলপুরের বিজেপি সাংসদ হিসেবে সংসদে পৌঁছতেই দলীয় সাংসদদের একাংশ তাঁকে স্বাগত জানান। সংসদ চত্বরে তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখান বিজেপির সহকর্মীরা। তাঁকে পাগড়ি পরিয়ে সম্মান জানানো হয় এবং ‘প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগানও শোনা যায়। পরে দলের সাংসদরাই তাঁকে সংসদ ভবনের ভিতরে নিয়ে যান।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধান যখন সংসদের মকর দ্বার দিয়ে প্রবেশ করছিলেন, তখন কাছেই বিরোধী সাংসদেরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। বিরোধীদের জমায়েত থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়। ভোটে অনিয়ম এবং পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয় নিয়ে তারা সরব হন। পাশাপাশি, ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী সাংসদেরা। তাঁদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে এবং ক্ষমাও চাইতে হবে।
নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। তাদের অভিযোগ ছিল, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির দায় সরকারকে নিতে হবে।
এর মধ্যেই শনিবার সরকারের সঙ্গে আলোচনার আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে তাঁর জায়গায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রহ্লাদ জোশীকে।
পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি তাঁকে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের উন্নতির জন্য একটি শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মেন্দ্র আরও জানান, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই তিনি বিষয়টির দায় নিয়েছিলেন।


