যন্তরমন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে আন্দোলন চলার মধ্যেই এক আরএসএস নেতার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে তাঁর মন্তব্য এবং নারী আন্দোলনকারীদের নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্য রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় আরএসএস নেতা টি জি মোহনদাস বলেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে যন্তরমন্তর এলাকা ঘিরে কার্ফু জারি করতেন। এরপর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেন তিনি। এখানেই থেমে না থেকে আন্দোলনে উপস্থিত মহিলাদের সম্পর্কেও অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিশেষ করে বামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনের মহিলা কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই অশালীন ও অসম্মানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ছাত্র সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন। অনেকের মতে, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করা ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভাষা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলনকারীদের দমন করতে গুলি চালানোর মতো মন্তব্যকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শুধু রাজনৈতিক মহলই নয়, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাঁদের দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও হিংসা উসকে দেওয়া বা কোনও গোষ্ঠীকে অপমান করার মতো বক্তব্য কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য আরএসএস নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ক্রমশ বিতর্ক বাড়তে থাকায় পরে নিজের বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দেন টি জি মোহনদাস। তিনি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, এটি ছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, যা প্রসঙ্গ না বুঝে আলাদা করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৩১ মিনিটের পুরো ভিডিও না দেখে শুধুমাত্র একটি অংশ ভাইরাল হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
আরএসএস নেতার আরও অভিযোগ, প্রথমে একটি ইউটিউব চ্যানেল ভিডিওটির ওই অংশ প্রকাশ করে। পরে সমাজমাধ্যমে সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই কারণেই বিতর্ক আরও বেড়ে যায়। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ আলোচনা দেখলে বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বোঝা যেত।
তবে এই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি। বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন জানিয়েছে, এমন মন্তব্যকে শুধুমাত্র ‘ব্যঙ্গ’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হিংসার ইঙ্গিত এবং নারী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ এখনও অব্যাহত রয়েছে।


