হাওড়া জেলার একাধিক সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্প চালিয়ে যেতে গিয়ে চরম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন শিক্ষকরা। গত কয়েক মাস ধরে সরকারি বরাদ্দ না পৌঁছনোয় পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার বন্ধ না করে স্থানীয় দোকান থেকে ধার করে খাদ্যসামগ্রী কিনে রান্নার ব্যবস্থা করছেন তাঁরা। ফলে অনেক স্কুলের নামে বড় অঙ্কের বকেয়া জমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা যেমন মানসিক চাপে রয়েছেন, তেমনই উদ্বেগ বাড়ছে স্কুল পরিচালনা নিয়েও।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের পর থেকে বহু স্কুলে পিএম পোষণ প্রকল্পের জন্য নতুন করে অর্থ পৌঁছয়নি। অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য খাবার তৈরি করতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী কোনও অবস্থাতেই এই পরিষেবা বন্ধ রাখা যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা স্থানীয় মুদি দোকানগুলির উপর নির্ভর করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দোকানিরা বিশ্বাসের ভিত্তিতে ধার দিচ্ছেন, যদিও দীর্ঘদিন টাকা না মেলায় তাঁদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন অর্থবর্ষের জন্য পিএম পোষণ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কেন্দ্রের কাছে অর্থ চেয়ে আবেদনও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই অর্থ রাজ্যের হাতে এসে পৌঁছয়নি। ফলে বহু স্কুলে আগে থেকে থাকা তহবিল প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী দিনে সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে বিকাশ ভবন থেকে জানানো হয়েছে, কোনও স্কুলেই মিড-ডে মিল বন্ধ করা যাবে না। বরাদ্দের অনুমোদন ইতিমধ্যেই হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শিক্ষা দফতরের একাংশের মতে, সাধারণত কয়েক মাসের জন্য আগাম কিছু অর্থ স্কুলগুলিকে দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে শুরুতে প্রকল্প চালানো হয়। পরে নতুন বরাদ্দ এলে সেই ঘাটতি পূরণ করা হয়। কিন্তু যেসব স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম, সেখানে অতিরিক্ত তহবিলও কম থাকে। ফলে দীর্ঘদিন নতুন টাকা না এলে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়।
উত্তরবঙ্গের এক প্রধানশিক্ষক জানান, সরকারি অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা যায় না। তাই অন্য খাতের টাকা এনে মিড-ডে মিল চালানো সম্ভব নয়। আবার বড় স্কুলগুলিতে কিছু অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলেও ছোট স্কুলগুলির সেই সুযোগ থাকে না।
নদিয়ার এক প্রধানশিক্ষকের কথায়, বেশি সংখ্যক পড়ুয়া থাকা স্কুলে বরাদ্দও বেশি হয়। খরচের পর কিছু টাকা থেকে যায়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগে। কিন্তু সব স্কুলের আর্থিক অবস্থা এক নয়। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বড় সংকটে রয়েছে।
হাওড়ার বালি-জগাছা এলাকার একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান, মার্চের পর আর কোনও টাকা আসেনি। ইতিমধ্যেই স্থানীয় মুদি দোকানের কাছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বকেয়া হয়েছে। প্রতিদিন দোকানির মুখোমুখি হতে অস্বস্তি হচ্ছে বলেও তিনি জানান। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের এক প্রধানশিক্ষক বলেন, তাঁর স্কুলে আপাতত জুলাই পর্যন্ত অর্থ রয়েছে। তবে এরপর নতুন বরাদ্দ না এলে সেখানেও সমস্যা তৈরি হবে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন, বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং পিএম পোষণ প্রকল্পের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে শিক্ষা দফতর বলে জানা গিয়েছে।


