শিলিগুড়িতে সফদর হাসমি চকের নামফলক সরানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ওই বোর্ড খুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল সংক্রান্ত কাজের জন্য সাময়িকভাবে বোর্ডটি সরানো হয়েছে এবং কাজ শেষ হলে তা আবার আগের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হবে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এই কাজ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের পরই রাতের অন্ধকারে বোর্ডটি সরানো হয়েছে। যদিও প্রশাসনের ব্যাখ্যায় তিনি সন্তুষ্ট নন।
অশোক ভট্টাচার্য বলেন, তিনি যখন শিলিগুড়ির মেয়র ছিলেন, তখন আইন মেনে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে শহরের একাধিক রাস্তা ও চকের নামকরণ করা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের অনুমতিও নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, শুধু সফদর হাসমির নামেই নয়, মহাত্মা গান্ধী, গুরু নানক এবং বি.বা.দি. বাগের নামেও শহরের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ করা হয়েছে। তাই কোনও নির্দিষ্ট নামফলক সরিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, সফদর হাসমি দেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর অবদানকে সম্মান জানিয়েই ওই চকের নামকরণ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
ঘটনার প্রতিবাদে শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আবেদনও করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ইতিহাসকে ইচ্ছেমতো বদলে ফেলা যায় না। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা সংস্কৃতির ইতিহাসে যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না। সফদর হাসমি চকের নামফলক আগের জায়গায় ফিরিয়ে না দিলে আন্দোলনের পথেই হাঁটার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বোর্ড সরানো হয়নি। এলাকায় কেবল বসানোর কাজ চলায় সাময়িকভাবে সেটি খুলে রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর আগের জায়গাতেই বোর্ডটি বসিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে এই ব্যাখ্যায় বিরোধীরা পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। সিপিএম-এর নেতাদের বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত বোর্ডটি পুনরায় বসানো না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


