দিল্লিতে বাম ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, দলীয় সদর দফতরে ঢুকে এসএফআই-এর যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করেছে দিল্লি পুলিশ। দলের দাবি, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরই পুরনো একটি মামলাকে সামনে এনে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছে।
সিপিএমের বক্তব্য, মঙ্গলবার বিকেলে কয়েকজন পুলিশকর্মী দিল্লির একেজি ভবনে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা ২০২১ সালের বঙ্গ ভবন বিক্ষোভ সংক্রান্ত একটি মামলার ভিত্তিতে ঐশী ঘোষকে আটক করতে চান বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডাও হয়। পরে সেই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে সিপিএম।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও পরোয়ানা দেখানোর দাবি করছেন। ব্রিটাসের অভিযোগ, পুলিশ কোনও লিখিত নির্দেশ দেখাতে পারেনি। তাঁদের তরফে শুধু জানানো হয়, ৩০ জুলাই মামলার শুনানি রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা এসেছেন। তাঁর দাবি, প্রশ্নের মুখে পড়তেই পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তাঁর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের দফতরে এভাবে প্রবেশের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকদিন ধরেই ঐশী ঘোষের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। এমনকি পুলিশ ব্যক্তিগত গাড়িতে এসেছিল এবং উপস্থিত কয়েকজনের গায়ে পুলিশি পোশাকও ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, বিরোধী মতকে দমিয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষের এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, এটি কোনও নতুন মামলা নয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুরনো একটি জামিন অযোগ্য মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তদন্তকারী আধিকারিক সেখানে গিয়েছিলেন। নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঐশী ঘোষ সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করে অভিযোগ করেছিলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের শনাক্ত করতে দিল্লি পুলিশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মুখ চিহ্নিতকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সেই অভিযোগ নিয়ে এখনও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তার মধ্যেই এই নতুন ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।


