কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এবার আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করল দেশের কৃষক সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার দিল্লির সিভিক সেন্টারে সংযুক্ত কিষান মোর্চার বৈঠকে আগামী কয়েক মাসের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বৈঠকের পর কৃষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৬ নভেম্বর, কৃষক আন্দোলনের বর্ষপূর্তির দিনে দেশজুড়ে বড় কর্মসূচি নেওয়া হবে। দিল্লি-সহ দেশের প্রায় ১০০টি জায়গায় কৃষকদের মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে সেই কর্মসূচিতে ট্র্যাক্টর মিছিল থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরে জানানো হবে বলে সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।
এর আগে আগামী ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের দাবিগুলি তুলে ধরেই এই স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা, বিধায়ক এবং সাংসদদের কাছেও একই স্মারকলিপির কপি পাঠানো হবে। কৃষকদের দাবি সম্পর্কে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অবগত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতৃত্বের দাবি, কৃষকদের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই আগামী দিনে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকদেরও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে শ্রমিক ও কৃষকদের যৌথ কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিক সংগঠন ও কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ভবিষ্যতের আন্দোলনের কৌশল নিয়েও সেখানে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এসএফআই অভিযোগ করেছে, ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে দিল্লি পুলিশ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এ কে গোপালন ভবনে পৌঁছেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি দাবি করেছেন, একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় দফতরে পুলিশের এই ধরনের পদক্ষেপ আইনসম্মত নয়। তাঁর অভিযোগ, যথাযথ নিয়ম না মেনেই পুলিশ সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেছে এবং তল্লাশির মতো আচরণ করেছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
কৃষক আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি এবং ছাত্র আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের ফলে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক মাসে এই আন্দোলনগুলি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


