বরাহনগরে দুর্গাপুজো কমিটির দায়িত্ব নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি-সহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি নিয়োগীপাড়া এম বি সরণি এলাকার। সেখানে মুদি দোকান চালান বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তিনি গত তিন বছর ধরে স্থানীয় দর্জিপাড়া-নিয়োগীপাড়া দুর্গোৎসব ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষও। অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই পুজো কমিটির দায়িত্ব ছাড়ার জন্য তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হয়। কমিটির নথি, ব্যাঙ্কের কাগজপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি তুলে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
বিশ্বনাথের দাবি, তাঁকে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয় বিধায়ক সজল ঘোষের আশ্বাস পাওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি আবার দোকান খুলেছিলেন। এদিকে, পুজো কমিটির সভাপতি চঞ্চল বিশ্বাসের অভিযোগ, ক্লাবঘর তৈরির জন্য বা নগদ টাকা দেওয়ার চাপও দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে পাঁচ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়, পরে সেই দাবি কমিয়ে দুই লক্ষ টাকা করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
বিশ্বনাথের অভিযোগ, রবিবার রাতে বিজেপির বরাহনগর-২ মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীর নেতৃত্বে কয়েকজন এসে তাঁকে দোকান থেকে টেনে বের করে মারধর করেন। বাধা দিতে গেলে তাঁর ভাগ্নেও আক্রান্ত হন। গুরুতর আহত বিশ্বনাথের পাঁজরে চোট লেগেছে এবং তিনি এখন শয্যাশায়ী। অন্যদিকে, সঞ্জয় অধিকারীর দাবি, সব অভিযোগই মিথ্যা। তাঁর কথায়, স্থানীয় পুজো কমিটির বিবাদের জেরে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে।


