কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হওয়া ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের অসম্মান করে কঙ্গনা এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা একজন জনপ্রতিনিধির পক্ষে শোভন নয়।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে একের পর এক পোস্ট করেন কঙ্গনা। সেখানে আন্দোলনের ভিডিও দেখে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর দাবি, প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একাংশ তরুণ-তরুণীর আচরণ অত্যন্ত অশালীন। বিশেষ করে কয়েকজন তরুণীকে উদ্দেশ্য করে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশকে কটাক্ষ করেন তিনি। কঙ্গনার বক্তব্য, সত্যিকারের স্বাধীন নারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেন, কিন্তু আন্দোলনে দেখা যাওয়া কিছু মানুষের আচরণ সেই ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।
পরে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের মন্তব্যের পক্ষে সাফাই দেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই কারণেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের সবাইকে আদৌ ছাত্র-ছাত্রী বলে মনে হয় কি না।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৬ দিন ধরে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন চলেছিল। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবিগুলির মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শেষ পর্যন্ত সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার পর গত ২৫ জুলাই সেই আন্দোলনের ইতি ঘটে।
কঙ্গনার মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বর্তমান প্রজন্ম দেশের জন্য কঙ্গনার চেয়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছে। তাঁর দাবি, কঙ্গনার বক্তব্যকে তাঁর নিজের দলও বিশেষ গুরুত্ব দেয় না।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি বলেন, তরুণ প্রজন্মই এই মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব দেবে। কংগ্রেস নেত্রী রেণুকা চৌধুরীর মতে, একজন সাংসদের মুখে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব এই মন্তব্যকে সংবেদনহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেন, সাংবিধানিক অধিকার মেনেই আন্দোলন হয়েছিল। তাই আন্দোলনকারীদের কাছে কঙ্গনার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়াতেও কঙ্গনার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। বহু ব্যবহারকারী তাঁর আগের বিভিন্ন মন্তব্য তুলে ধরে দ্বিচারিতার অভিযোগ করেছেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।


