বিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উৎসর্গ করে একটি মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদ এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার আগে রাজ্য সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও জমি বরাদ্দের বিষয়টি এখনও বাকি রয়েছে।রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদের সদস্য রঞ্জন সিংহ জানিয়েছেন, রূপান্তরকামী সমাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস, সেই কারণেই কৃতজ্ঞতা জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বিহারে রূপান্তরকামীদের নিজস্ব কোনও উপাসনাস্থল নেই। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বোর্ডের বৈঠকে এই প্রস্তাব রাখা হয় এবং উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে তা অনুমোদন পায়।রঞ্জন সিংহের বক্তব্য, এই উদ্যোগের সঙ্গে কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্য জড়িত নয়। বরং রূপান্তরকামী সমাজের স্বীকৃতি ও সম্মানকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, জাতীয় স্তরে রূপান্তরকামীদের পরিচয় ও অধিকার নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার স্বীকৃতিস্বরূপ এই মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।গত বছর বিহারে রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদ গঠন করা হয়। সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে পরিচালিত এই পর্ষদের মূল লক্ষ্য রূপান্তরকামীদের অধিকার রক্ষা, উন্নয়ন এবং সামাজিকভাবে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।তবে এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রূপান্তরকামী সমাজের একাংশ এবং কয়েকজন সমাজকর্মী মনে করছেন, প্রতীকী উদ্যোগের পরিবর্তে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।এদিকে, ২০১৯ সালের রূপান্তরকামী অধিকার সংক্রান্ত আইন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও যথেষ্ট জটিল। পাশাপাশি সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় রূপান্তরকামীদের অনেকেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।যদিও পর্ষদের তরফে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, তবুও মন্দির নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সম্মতি ও জমি বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৫ সালে গুজরাতের রাজকোট জেলার কোঠারিয়া গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি মন্দির তৈরি হয়েছিল। পরে সেই উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক দেখা দিলে মন্দির থেকে তাঁর মূর্তি সরিয়ে সেটিকে ‘ভারত মাতা মন্দির’-এ রূপান্তর করা হয়।
Popular Categories


