২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার মামলায় বন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদ ফের জামিনের আবেদন করেছেন। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর আওতায় দায়ের হওয়া মামলায় ট্রায়াল কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করার পর এবার তিনি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। শুক্রবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি প্রতিভা এম. সিং এবং বিচারপতি বিকাশ মহাজনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি উঠবে। ট্রায়াল কোর্টের গত ৪ জুলাইয়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই নতুন করে আবেদন করেছেন উমর খালিদ।২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তার পিছনে একটি বড় ষড়যন্ত্র ছিল এবং সেই ষড়যন্ত্রের অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদ। সেই হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-রও বেশি মানুষ আহত হন।সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের সময় এই হিংসার ঘটনা ঘটে। পরে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এই মামলায় উমর খালিদ ছাড়াও শরজিল ইমাম, খালিদ সইফি এবং প্রাক্তন আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।গত ৪ জুলাই ট্রায়াল কোর্ট উমর খালিদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আলাদা করে জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আবেদন মঞ্জুর করা সম্ভব নয়।এর আগেও ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাই কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করেছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টও। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত গুলফিশা ফাতিমা, মিরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমদকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, উমর খালিদ এবং শরজিল ইমামের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র আওতায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। পাশাপাশি আদালত আরও জানায়, এই মামলার সব অভিযুক্তের ভূমিকা এক নয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ঘটনায় তাঁদের অংশগ্রহণের মাত্রা আলাদা। তাই সবাইকে একইভাবে বিচার করা যাবে না।এখন দিল্লি হাই কোর্টে শুক্রবারের শুনানির দিকেই নজর রয়েছে। আদালত ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে, নাকি নতুন করে জামিনের আবেদন বিবেচনা করবে, তা এই শুনানির পরই স্পষ্ট হবে।
Popular Categories


