মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার জন্য পুলিশ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নির্দেশ দিয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রশ্ন করল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে আদালত জানতে চায়, পুলিশের তরফে এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না।বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী দানিশ ফারুকি জনস্বার্থ মামলা করে অভিযোগ করেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় মসজিদ, মন্দির-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লাউডস্পিকার ব্যবহার নিয়ে পুলিশ মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশের কোনও লিখিত নোটিস দেওয়া হয়নি।মামলাকারীর দাবি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যায়। অথচ কোথাও শব্দের মাত্রা মাপা না হয়েই লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আজান ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচারের অংশ। সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।রাজ্যের হয়ে অ্যাডভোকেট এজি মিত্র অবশ্য মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, মামলায় কোনও নির্দিষ্ট মসজিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, যেখানে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। কোনও ইমাম বা মসজিদ কর্তৃপক্ষও সরাসরি আদালতে এসে অভিযোগ করেননি। তাই অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি জানান।এরপর আদালত রাজ্যের আইনজীবীর কাছে জানতে চায়, সরকার কি এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে? জবাবে মিত্র বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় চান। এদিকে, এই মুহূর্তে লাউডস্পিকার সরানো বন্ধ রাখার জন্য কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। কারণ, মামলায় নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ না থাকায় এমন নির্দেশ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য আদালতের হাতে নেই বলে জানানো হয়। হুগলি জেলার ক্ষেত্রে একই ধরনের নির্দেশ চাওয়া হলেও সেটিও মঞ্জুর হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
Popular Categories


