মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ন জেলায় প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার সিদ্ধান্তকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাস্তা চওড়া করার কাজের জন্য মসজিদের কিছু অংশ সরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে শহরের রাস্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থার উন্নতির কাজ চলছে। সেই প্রকল্পেরই অংশ হিসেবে মসজিদের ঝুলন্ত ছাদের প্রায় তিন ফুট অংশ সরানোর কথা রয়েছে।গত ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হতে শুরু করেন। রবিবার রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। মসজিদের বাইরে প্রশাসনের বুলডোজারও রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে আশঙ্কায় অনেকে মসজিদ চত্বরে অবস্থান করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন মানুষ মসজিদের ভেতরেই ছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, যে কোনও সময় ভাঙার কাজ শুরু হতে পারে।সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এরপর সরু গলিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।তবে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার পরিস্থিতি এড়াতে মসজিদ কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাই ঝুলন্ত ছাদের প্রায় তিন ফুট অংশ নিজেরাই খুলে ফেলতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, এই কাজ চলার সময় অনেক মুসল্লি ও স্থানীয় মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।এই বিরোধের সূত্রপাত উজ্জয়ন পুরনিগমের জারি করা একটি নোটিশকে কেন্দ্র করে। নোটিশের বিরুদ্ধে দুটি আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে করা হয়েছিল। বিচারপতি সন্দীপ এন. ভাট সেই আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, রাস্তা চওড়া করার জন্য মসজিদের কিছু অংশ সরানোর বিষয়টি আইন অনুযায়ী পুরনিগমের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে।আদালতের পর্যবেক্ষণে উজ্জয়নের ভৌগোলিক অবস্থান, আসন্ন সিংহস্থ কুম্ভে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। আদালত এই পরিস্থিতিকে বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করে পুরনিগমের পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেনি।
বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের শাহী মসজিদের একাংশ ভেঙে দেওয়াক কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উজ্জয়ন, বাড়ছে বিক্ষোভ!
Popular Categories


