স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের অপমানজনক মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। এই অবমাননার তীব্র বিরোধিতা করে নবান্ন আগেই এক বিজ্ঞপ্তিতে অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, তাঁর কার্যকলাপ রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মানের মর্যাদার পরিপন্থী।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম আইনি ও সামাজিক সঙ্কটে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ হস্তচ্যুত হওয়ার একদিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এবার পুলিশের দুয়ারে অভিযোগ পৌঁছে গেল। কোচবিহারের এক ফরোয়ার্ড ব্লক সমর্থকের দায়ের করা নালিশের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বঙ্গবিভূষণ হারানোর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মাত্র ১৭ সেকেন্ডের এক সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে নিজের ‘অনিচ্ছাকৃত’ ভুলের জন্য ক্ষমা চান অনন্ত মহারাজ। তবে তাতে আইনি জটিলতা এড়ানো যায়নি। কোচবিহার পুলিশের প্রধান মণীশ জোশী নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে দায়ের হওয়া নির্দিষ্ট নালিশের ভিত্তিতেই এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ফরওয়ার্ড ব্লকের অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সর্বজনশ্রদ্ধেয় বিশ্বনায়ক নেতাজিকে অপমানের শাস্তি হিসেবে ওই বিজেপি সাংসদের পদও খারিজ করা উচিত। পাশাপাশি, নেতাজিকে নিয়ে ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার সেল কঠোর পদক্ষেপ করছে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত মামলায় অনন্ত মহারাজের বেশ কয়েকজন অনুগামী সহ একাধিক অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।


