উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর পুরসভাকে ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছে এমন একটি ভিডিয়ো, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ভিডিয়োটিতে কয়েক জন কাউন্সিলারকে হাতে গঙ্গাজল নিয়ে শপথ নিতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ, পুরসভার কাজের নামে পাওয়া ঘুষের টাকা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি, কেউ যাতে একা পুরো টাকা নিয়ে নিতে না পারেন, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হচ্ছে। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধীদের নিশানায় বিজেপি।
শাহজাহানপুর পুরসভায় মোট ৬০ জন কাউন্সিলার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিজেপির সংখ্যাই বেশি। প্রকাশিত ভিডিয়োতেও মূলত বিজেপির কাউন্সিলারদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। সেখানে একজন কাউন্সিলার সামনে দাঁড়িয়ে বাকিদের শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন। অন্যরা তাঁর কথা অনুসরণ করছেন।
ভিডিয়োয় দাবি করা হচ্ছে, ঘুষ হিসাবে যে টাকা আসবে, তা সকলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। কোনও কাউন্সিলার কোনও সমস্যায় পড়লে বাকিরা তাঁর পাশে থাকবেন বলেও শপথ নেওয়া হয়। এমনকি কেউ এই সমঝোতা ভেঙে দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। শপথের সময় একজনকে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলতেও শোনা যায়। পরে কয়েক জনকে গঙ্গাজল মাটিতে ফেলতে, মাথায় দিতে এবং পান করতে দেখা যায়।
এই ভিডিয়ো ঘিরে সরব হয়েছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। কংগ্রেসের শাহজাহানপুর জেলা সভাপতি রজনীশ গুপ্তার অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের পুরসভাগুলিতে দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে জেতার পরে জনপ্রতিনিধিরা যে শপথ নেন, তার সঙ্গে এই দৃশ্যের কোনও মিল নেই। তিনি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে কাউন্সিলারদের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলারদের একাংশ। লালু পুজারীর দাবি, ভিডিয়োটির বক্তব্য ঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। অনুপ গুপ্তা আবার জানিয়েছেন, এটি পুরনো ভিডিয়ো এবং সেটিকে ব্যবহার করে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। অন্য কাউন্সিলারদেরও দাবি, পুরো বিষয়টি মিথ্যা। তাঁদের বক্তব্য, পুরসভার উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ টাকা কীভাবে ভাগ করা হবে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছিল।
পুরসভার মেয়রও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেননি। অন্যদিকে পুরকমিশনার সৌম্যা গুরুরানি জানিয়েছেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে ভিডিয়োটির সত্যতা এবং সেখানে থাকা অভিযোগ কতটা সঠিক, এখন সেটাই তদন্তের মূল বিষয়।


