পালাবদলের পর বাংলার দুর্গাপুজোয় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে আমিষ খাবার ঘিরে। পুজো মণ্ডপের আশপাশে মাংস, মাছ বা অন্য কোনও আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। সংগঠনের বক্তব্য, বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের খাবারের রীতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই গোটা পুজোকে নিরামিষ করার দাবি তারা করছে না। তবে প্রতিমার কাছাকাছি এলাকায় পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য আমিষ খাবার থেকে দূরত্ব রাখা প্রয়োজন।
ভিএইচপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নির্গুণানন্দ জানিয়েছেন, পুজোর সময় আমিষ খাবার খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার কথা তাঁরা বলছেন না। তাঁর মতে, বাংলার পুজোর নিজস্ব সংস্কৃতির মধ্যে আমিষ খাবারের চল রয়েছে। কিন্তু পুজো মণ্ডপ এবং প্রতিমার আশপাশের পরিবেশকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, পুজো প্রাঙ্গণের কাছাকাছি যাতে মাছ-মাংসের দোকান বা খাবারের স্টল না থাকে, সেই বিষয়ে আয়োজকদের উদ্যোগী হতে হবে। কারও আমিষ খাবার বিক্রির প্রয়োজন থাকলে মণ্ডপ থেকে দূরে নির্দিষ্ট জায়গায় সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। খাবারের উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য যাতে পুজো প্রাঙ্গণের আশপাশে এসে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে ভিএইচপি।
এই বিষয়ে পুজো কমিটিগুলির উপর এক ধরনের দায়িত্বও চাপিয়েছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, প্রতিমার মর্যাদা এবং মণ্ডপের পরিবেশ বজায় রাখতে আয়োজকদের নিজেদের থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সংগঠনকে ‘হস্তক্ষেপ’ করতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—বাংলায় বহুল ব্যবহৃত এই স্লোগান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভিএইচপি। সংগঠনের ওই নেতার বক্তব্য, ধর্মীয় রীতি ও সংস্কৃতি পালন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষেরই। অন্য ধর্মের মানুষ দুর্গাপুজোর মণ্ডপে আসতে পারেন, উৎসব দেখতে পারেন। তবে হিন্দুদের ধর্মীয় আচার ও পরম্পরা রক্ষা করার দায়িত্ব হিন্দু সমাজের উপরেই বর্তায় বলে দাবি তাঁর।
ভিএইচপির এই বক্তব্য সামনে আসতেই দুর্গাপুজোর পরিবেশ, খাবারের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় রীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলার মতো বহুত্ববাদী সংস্কৃতির রাজ্যে পুজো মণ্ডপের আশপাশে খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে এমন কোনও বিধি চালু হবে কি না, তা নিয়েই এখন নজর সবার।


