বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে অন্তর্বর্তিকালীন জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার সুযোগ দিতে আদালত তাঁকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়েছে। তবে এই জামিনের সঙ্গে একাধিক শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, লাহেক আলি নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। এছাড়া বারুইপুর থানার তরফে তাঁকে হাজির হতে বলা হলে তদন্তের প্রয়োজনে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে।
লাহেক আলির মা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে আদালতে জানানো হয়। তিনি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন বলেও তাঁর আইনজীবীর তরফে জানানো হয়। মায়ের এই অবস্থার কথা তুলে ধরে লাহেকের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন বিবেচনা করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ শর্তসাপেক্ষে তাঁকে সাময়িক মুক্তির অনুমতি দেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুন মাসের গোড়ায়। বারুইপুর থানা এলাকার একটি নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন। সেই বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য লাহেক আলি।
নাবালিকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা এক অটোচালককে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে তাঁর উপর হামলা চালায়। মারধরের জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয় একটি পুলিশ ফাঁড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে লাহেক আলির নামও পুলিশের নজরে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। পরে গত ১২ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে জেলেই ছিলেন তিনি। প্রায় ৫০ দিন ধরে বন্দি থাকার পর এবার আদালতের নির্দেশে সাময়িকভাবে জেলের বাইরে আসার সুযোগ পেলেন সিপিএম নেতা।
তবে অন্তর্বর্তিকালীন জামিন পেলেও লাহেকের উপর নজর থাকবে পুলিশের। আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই থাকতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ ডাকলে হাজিরাও দিতে হবে। মায়ের শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই আপাতত তাঁকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের পর তাঁর জামিনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


