রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতন শুধু বাংলার নয়, সারা দেশের পর্যটকদের কাছেই অত্যন্ত পরিচিত একটি জায়গা। প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ বোলপুর ও শান্তিনিকেতনে আসেন। ইলামবাজার-শ্রীনিকেতন সড়ক ধরে বোলপুরে ঢোকেন অনেক পর্যটক। ফলে এই রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে একাধিক হোটেল, ধাবা ও খাবারের দোকান। স্থানীয় বহু মানুষের জীবিকা নির্ভর করে এই ব্যবসার উপর।
তবে এবার সেই খাবারের দোকানগুলির নাম ও পরিচয় ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, সনাতন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা ওই রাস্তার ধারের কয়েকটি হোটেল ও ধাবায় গিয়ে মালিকদের পরিচয় স্পষ্ট করে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দোকানের নাম দেখে ক্রেতারা অনেক সময় মালিকের ধর্মীয় পরিচয় বুঝতে পারছেন না। তাই ব্যানারে মালিকের নামের পাশাপাশি তিনি হিন্দু না মুসলিম, সেটিও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
রবিবার সকালে সংগঠনের কয়েকজন সদস্য শ্রীনিকেতন-ইলামবাজার সড়কে গিয়ে একাধিক খাবারের দোকানে কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে। ‘রাহাত বিহারী হোটেল’-এর মালিক শেখ কালামুদ্দীনও তাঁদের নির্দেশের মুখে পড়েন। বিহার থেকে এসে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ওই হোটেল চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। তাঁকে সাত দিনের মধ্যে দোকানের ব্যানার বদলানোর কথা বলা হয়েছে। নতুন ব্যানারে নিজের নাম এবং ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কালামুদ্দীন জানিয়েছেন, তাঁর হোটেলে কর্মরতদের অধিকাংশই হিন্দু। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর নেই। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসায় তিনি ব্যানার পরিবর্তন করার কথা জানিয়েছেন।
সংগঠনের সদস্যরা অন্যান্য হোটেল মালিকদেরও একই ধরনের কথা বলেছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, ব্যবসা করতে কারও বাধা নেই। তবে দোকানের সামনে মালিকের নাম এবং ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। সংগঠনের জেলা সভাপতি অনিকেত মজুমদারের দাবি, কোনও হোটেলের নাম বা সাজসজ্জা দেখে যাতে ক্রেতারা ভুল ধারণা না করেন, সেই কারণেই এই উদ্যোগ।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এতদিন ধরে কোনও সমস্যা ছাড়াই তাঁরা ব্যবসা করে আসছেন। হঠাৎ করে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের নির্দেশ তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর।
উত্তরপ্রদেশে কাঁওয়ার যাত্রার সময় হোটেল ও দোকানের মালিকদের পরিচয় প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে আগে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে উত্তরাখণ্ডেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায়। এবার শান্তিনিকেতনের প্রবেশপথে এমন নির্দেশ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে।


