রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিল মস্কো। আমেরিকার শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ জানিয়েছেন, ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত তাঁর দেশ। ফলে জ্বালানি নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা যে আপাতত অটুট, সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট হল।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিপভ আমেরিকার চাপ তৈরির নীতির সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক চাপিয়ে কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া যায় না। বরং সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। তিনি জানান, ভারতের যতটা অপরিশোধিত তেল প্রয়োজন, রাশিয়া সেই চাহিদা পূরণ করতে প্রস্তুত।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলির একাংশ রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ভারত সেই পথে হাঁটেনি। তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল কেনার ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচও অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে এই বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতকে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়তে হয়েছে। এর পাশাপাশি রুশ জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও মার্কিন সেনেটে উঠেছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজন হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের ওপর বিপুল হারে শুল্ক বসানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব ভারত, চিন ও তুরস্কের মতো দেশের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতের জন্য জ্বালানি সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারতকে জ্বালানি ও সার সরবরাহে কোনও ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না।
দুই দেশের বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা চলছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে ভারসাম্য ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। পুতিনও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে বাণিজ্য কিছুটা কমলেও চলতি বছরে ফের তা বাড়তে শুরু করেছে। ভারতীয় কৃষকদের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া সার সরবরাহ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফলে তেল থেকে সার—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা আগামী দিনেও বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মার্কিন চাপের মধ্যে এই সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, সেটাই এখন নজরের বিষয়।


