শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টের। মিছিল করার অনুমতি দিল না আদালত। তবে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মসূচিতে জনসমাগম, সময়সীমা, বক্তব্য এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরের মাহেশে কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল তৃণমূলের কালীঘাট শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল করে সভা করার কথা ছিল। এই কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। কিন্তু পুলিশের অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে।
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, মিছিল করতে পারবে না কালীঘাট তৃণমূল। মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে সভা করতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে। সভায় ২ হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু জনসমাগম নয়, সভায় বক্তৃতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এমন কোনও বক্তব্য রাখা যাবে না, যাতে কোনও ব্যক্তির বা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগে।
সাধারণ মানুষের যাতায়াত যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেও আয়োজকদের নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কর্মসূচির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে সভায় দায়িত্বে থাকা ভলান্টিয়ারদের নামের তালিকা বৃহস্পতিবার রাত ৮টার মধ্যে জমা দিতে হবে।
রাজ্যে পালাবদলের পর একুশে জুলাই কিংবা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মতো কর্মসূচিতে কলকাতার মঞ্চে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে শুক্রবারই প্রথমবার শহরের বাইরে কোনও জেলায় তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে চলেছে বলে দাবি কালীঘাট শিবিরের। মিছিলের অনুমতি না মিললেও হাই কোর্টের শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি পাওয়ায় সেই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নজর থাকছে।


