পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির তহবিলে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়াকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া দলের খরচ ও আয়ের হিসাব সামনে আসার পর বিরোধীরা জানতে চাইছে, এত টাকা কোথা থেকে এল এবং কারা এই অর্থ দিল।হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৬ মে পর্যন্ত অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরিতে ভোটের সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরে প্রায় ১,৪৭২.৮ কোটি টাকা অনুদান জমা পড়েছে। একই সময়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংগঠনগুলি মিলিয়ে পেয়েছে ২০৭.১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ কংগ্রেসের তুলনায় বিজেপির প্রাপ্ত অর্থ প্রায় সাত গুণের বেশি।বিজেপির এই বিপুল অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব সামনে আসার পর। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, অসম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে বিজেপি প্রায় ১৫৯.৭ কোটি টাকা খরচ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩০.৪ কোটি টাকা গিয়েছে প্রচার, সভা এবং তারকা প্রচারকদের যাতায়াতের মতো কাজে। অসমে একাই দলের খরচ হয়েছে প্রায় ৯৬.২৭ কোটি টাকা।তবে এখনও পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের নির্বাচনী খরচের সম্পূর্ণ হিসাব নির্বাচন কমিশনে প্রকাশিত হয়নি। ফলে এই দুই রাজ্যের খরচ যোগ হলে বিজেপির মোট নির্বাচনী ব্যয়ের অঙ্ক আরও বাড়বে। কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন থাকছে, ভোটের সময় দলের হাতে আসা অর্থের পরিমাণ এত বেশি হল কীভাবে।বিরোধী দলগুলি বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে। তাঁর দাবি, বিজেপির বিপুল অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা দরকার।সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও বিজেপির অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী বন্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজেপির অর্থ সংগ্রহ নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ভোটের আগে বিজেপির তহবিলে জমা পড়া এই বিপুল অর্থ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, অনুদানের উৎস এবং অর্থ ব্যবহারের পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি।
Popular Categories


