পশ্চিমবঙ্গে স্কুলের মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্প নিয়ে আবারও নতুন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’-কে রাজ্যের কয়েকটি জেলার স্কুলে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার যে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার আধিকারিকদের জানানো হয়েছে।গত ২১ অগস্ট রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় স্কুল পড়ুয়াদের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্কুলগুলিতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনার পর সরকার কাজটি করার অনুমতি দেয়।তবে প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত বদলে গেল। ১১ সেপ্টেম্বর স্কুলশিক্ষা দফতরের একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়, অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়া আগের অনুমোদন আর কার্যকর থাকছে না। কেন এই অনুমতি প্রত্যাহার করা হল, সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকায় বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি।এর আগে কলকাতায় মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শহরের প্রায় ৫০০টি স্কুলে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজে ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-কে যুক্ত করা হয়। নতুন ব্যবস্থায় প্রথম দিকে খাবার দেরিতে পৌঁছনো এবং নিরামিষ খাবার দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে সরকার। কিছু ক্ষেত্রে খাবার সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়।মিড-ডে মিলের দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে আদালতেও মামলা হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ইসকনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে বা রাজ্যের অন্য কোনও জায়গায় মিড-ডে মিল সরবরাহের সঙ্গে ইসকন সরাসরি যুক্ত নয়। তাদের বক্তব্য, অন্নামৃত ফাউন্ডেশন একটি আলাদা আইনি সংস্থা এবং তার পরিচালনা পর্ষদ ও ইসকনের সংগঠন পৃথক।অন্যদিকে, স্কুলশিক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, দুটি সংস্থা আইনগত ভাবে আলাদা হলেও তাদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। এই বক্তব্যকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অক্ষয় পাত্রের অনুমোদন বাতিলের ফলে এখন ওই জেলাগুলির স্কুলে কীভাবে খাবার সরবরাহ করা হবে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হবে।
মিড ডে মিলের দায়িত্ব থেকে সরানো হলো ইসকনকে, চাপের মুখে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার শুভেন্দু সরকারের!
Popular Categories

