আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন। ভোটের আগে থেকেই এই নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী মহলে আলোচনা তুঙ্গে। তবে এবারের লড়াইয়ে শুধু প্যানেল বা প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণও নজর কাড়ছে। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের একাংশ এবার ‘অ্যাডভোকেট ফোরাম’-এর নামে ভোটে লড়ছেন। আবার বিজেপির লিগ্যাল সেলের প্যানেলে জায়গা পেয়েছেন এক সময়ের তৃণমূল নেতা ভাস্কর রায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।বিজেপির লিগ্যাল সেলের প্যানেলে এগজিকিউটিভ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভাস্কর রায়। একসময় আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে দলের এসসি-ওবিসি সেলের ব্লক সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। সেই ভাস্করকে এবার বিজেপি সমর্থিত প্যানেলে দেখা যাওয়ায় দলের কয়েকজন কর্মী ও সমর্থকের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে।তবে ভাস্কর রায়ের বক্তব্য, তিনি অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন। তাঁর মতে, বার অ্যাসোসিয়েশনের ভোট রাজনৈতিক দলের সাধারণ নির্বাচনের মতো নয়। এখানে কোনও দলীয় প্রতীক থাকে না। প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই ভোট হয়।ভাস্করকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিজেপির লিগ্যাল সেলের বার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি পদপ্রার্থী কমলেশ দত্ত জানান, তৃণমূলে থাকার সময় ভাস্কর সক্রিয় ছিলেন না। বিজেপির সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার সঙ্গে বিজেপির মতাদর্শের মিল রয়েছে বলেই তাঁকে প্যানেলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কমলেশের।অন্যদিকে, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের ‘অ্যাডভোকেট ফোরাম’-এর হয়ে লড়াই করার প্রসঙ্গে বিদায়ী বোর্ডের সম্পাদক তথা তৃণমূল নেতা সুহৃদ মজুমদার বলেন, বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কোনও রাজনৈতিক দলের ভোট নয়। আইনজীবীরা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিচয়ের ভিত্তিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাই কে কোন দলের সঙ্গে যুক্ত, সেটি এই নির্বাচনে প্রধান বিষয় নয় বলেই তাঁর মত।এই বক্তব্যের পাল্টা বিজেপির কমলেশ দত্তের দাবি, আইনজীবী হিসেবে লড়াই করলেও তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে বলতে দ্বিধা করেন না। তাঁর অভিযোগ, পরাজয়ের আশঙ্কাতেই তৃণমূল ঘনিষ্ঠরা এবার দলীয় পরিচয় সামনে আনছেন না।এদিকে, নির্বাচনে বামপন্থী প্রার্থীরাও রয়েছেন। মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়ে যাওয়ায় ভোটের প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থনে প্রচার শুরু করেছেন। শেষ পর্যন্ত কারা আইনজীবীদের আস্থা অর্জন করতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহল।
Popular Categories


