রাজস্থানের সাম্প্রতিক পুরসভা নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের সঙ্কুচিত রাজনৈতিক পরিসর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের দুটি পুরসভায় বিজেপির বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে আম আদমি পার্টি (AAP) এবং সিপিএম। বারান পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আপ, অন্যদিকে বিকানের জেলার নোখা নগর পালিকায় বোর্ড গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাম দল।
বারান পুরসভার মোট ৬০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টিতে জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি। কংগ্রেসের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ১৮টি ওয়ার্ডে, বিজেপি পেয়েছে ৯টি আসন এবং নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ২টি ওয়ার্ডে। ফলে বারান পুরসভায় বোর্ড গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে AAP। দলের প্রার্থীদের জয়কে কেন্দ্র করে একাধিক ওয়ার্ডে কর্মী-সমর্থকেরা বিজয় মিছিল করেন।
রাজস্থানে AAP-এর রাজনৈতিক উপস্থিতি এখনও সীমিত। সেই পরিস্থিতিতে বারানে ৩১টি ওয়ার্ডে জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। পুরসভা নির্বাচনে ২১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে রাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা তৈরি করার সুযোগ পেল কেজরিওয়ালের দল।
বিকানের জেলার নোখা নগর পালিকার ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জয় পেয়েছে সিপিআইএম। বিজেপি জিতেছে ১৩টি ওয়ার্ডে এবং নির্দল প্রার্থীরা পেয়েছেন ৩টি আসন। কংগ্রেস কোনও ওয়ার্ডেই জয় পায়নি। ফলে নোখা নগর পালিকায় বোর্ড গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাম দল।
রাজস্থানে সীমিত নির্বাচনী প্রভাব থাকা সত্ত্বেও নোখায় CPM-এর এই জয়কে স্থানীয় স্তরে দলের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের রাজ্য সম্পাদক কিষাণ পারিখের দাবি, স্থানীয় ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলি নিয়ে ধারাবাহিক প্রচার চালানোর ফলেই মানুষ তাঁদের বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
পারিখ বলেন, বিজেপি এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। কংগ্রেসকে রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে না দেখে মানুষ সাংবিধানিক মূল্যবোধের পক্ষে CPM-কে বেছে নিয়েছেন বলেও তাঁর দাবি। তাঁর বক্তব্য, পুরসভায় একটি-দুটি ওয়ার্ডে জয়ও দলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক উপস্থিতি গড়ে তোলার প্রবেশদ্বার হতে পারে।
বারান ও নোখার ফলাফলকে কংগ্রেসের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। এতদিন রাজস্থানে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কংগ্রেসের যে অবস্থান ছিল, সাম্প্রতিক পুরভোটে তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একদিকে AAP, অন্যদিকে CPM—দুই দলই স্থানীয় স্তরে কংগ্রেসের ভোটভিত্তিতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
CPM-এর রাজ্য সম্পাদক কিষাণ পারিখের মতে, বিজেপি ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় সমস্যা, অর্থনৈতিক বিষয় এবং রাজনৈতিক বিকল্পের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে দল প্রচার চালিয়েছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের জায়গা পূরণ করার মতো রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে CPM-কে দেখছেন ভোটারদের একাংশ।
রাজস্থানে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক নির্বাচনী দুর্বলতা নতুন নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটি রাজ্যে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের মতো কোনও আসনেই জয় পায়নি। বরং তিনটি আসন জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দিয়েছিল কংগ্রেস—সিকার আসনটি CPM-কে, নাগৌর রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (RLP)-র নেতা হনুমান বেনিওয়ালকে এবং বাঁশওয়াড়া আসনটি ভারত আদিবাসী পার্টির রাইকুমার রাওতকে।
তিন প্রার্থীই জয়ী হন। পরবর্তী সময়ে সিকার থেকে নির্বাচিত CPM সাংসদ অমরা রাম ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দলের পলিটব্যুরোর সদস্য হন। তিনি রাজস্থান থেকে নির্বাচিত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে CPM-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংগঠনে জায়গা করে নেন।
পুরসভা নির্বাচনের এই ফলাফল তাই শুধু স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ নয়, রাজস্থানে কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিসর সঙ্কুচিত হওয়া এবং বিজেপির বিকল্প হিসেবে আঞ্চলিক ও বাম শক্তির উত্থানের দিকটিও সামনে আনছে।

