পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির (আপ) অস্বস্তি আরও বাড়ল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল। সোমবার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন আপের সাসপেন্ড হওয়া নেতা তথা প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং। তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে নাম লেখালেন আরও দুই সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক। রবিবারই দল ছেড়েছিলেন ওই দুই নেতা। সোমবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনজন। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁদের সাসপেন্ড করেছিল আপ।বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন বিধায়ক হলেন অমৃতসর উত্তর কেন্দ্রের কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং, সামানা কেন্দ্রের চেতন সিং জৌরমাজরা এবং পাতিয়ালা জেলার সানৌর কেন্দ্রের হরমিত সিং পাঠানমাজরা। বিজেপির পতাকা গলায় নিয়ে দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন তাঁরা। এরপর বিজেপি নেতাদের সঙ্গে হাত তুলে নিজেদের ঐক্যের বার্তাও দেন।২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দলবদল আপের কাছে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে আপ। সেই তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নাম রয়েছে ধুরি কেন্দ্র থেকে। বিধানসভার স্পিকার কুলতার সিং সন্ধওয়ান লড়বেন কোটকাপুরা থেকে। জেলে থাকা মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরাকেও লুধিয়ানা পশ্চিম কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আপের বিরুদ্ধে সরব হন কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ। তাঁর দাবি, পাঞ্জাবে আপের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত শেষ। অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ভগবন্ত মানের কাজকর্মই দলের এই অবস্থার জন্য দায়ী। তাঁর কথায়, পাঞ্জাব বর্তমানে মাদক, তোলাবাজি, গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং দুর্নীতির সমস্যায় জর্জরিত। রাজ্যকে আবার উন্নতির পথে ফেরানোই তাঁদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, আগে পুলিশ আধিকারিক হিসেবে কাজ করার সময় অপরাধ ও মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।অন্যদিকে, হরমিত সিং পাঠানমাজরার অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর আপ নিজেদের পুরনো প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়েছে। পাঞ্জাবকে ‘উড়তা পাঞ্জাব’ থেকে ‘উঠতি পাঞ্জাব’-এ পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা কাজ করতে চান। তাঁর দাবি, আপ সরকারের আমলে রাজ্যের ঋণের বোঝা অনেক বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে আপকে কটাক্ষ করেছেন শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদলও। তাঁর দাবি, আগামী দিনে আপ ছেড়ে আরও অনেকে বেরিয়ে যাবেন। এমনকি ধুরি কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানও নির্বাচনে হারবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। যদিও বাদলের এই মন্তব্য রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
Popular Categories


