ভোটার তালিকা থেকে বিদেশি নাগরিকদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশজুড়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া ঘিরেই এবার নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এসআইআর শেষ হওয়া ছয়টি রাজ্যে প্রায় ৯ কোটি ৮৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৬৪০ জন বিদেশি নাগরিকের সন্ধান মিলেছে। অর্থাৎ মোট ভোটারের তুলনায় এই সংখ্যা মাত্র ০.০২ শতাংশ। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত রিপোর্ট সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
গত বছর প্রথমে বিহারে এসআইআর শুরু হয়েছিল। এরপর ধাপে ধাপে দেশের ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কাজ শুরু হয়। কয়েকটি জায়গায় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, আবার কোথাও এখনও চলছে। এসআইআর-এর অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে বিদেশি নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি রাজ্যে সব মিলিয়ে মাত্র ১ হাজার ৬৪০ জন বিদেশি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম পাওয়া গিয়েছে কর্ণাটকে। সেখানে ৭১৬ জন বিদেশি নাগরিকের সন্ধান মিলেছে। বাকি পাঁচটি রাজ্য হল ঝাড়খণ্ড, মেঘালয়, কেরল, গোয়া এবং মিজোরাম।
বিদেশি ভোটার সংক্রান্ত তথ্য জানতে এসআইআর শেষ হওয়া এবং প্রক্রিয়া চলা ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাছে জানতে চেয়েছিল সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম। কিন্তু মাত্র ১১টি রাজ্য সেই বিষয়ে উত্তর দিয়েছে। চারটি রাজ্য জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে তাদের কাছে আলাদা কোনও তথ্য বা নথি নেই। অন্যদিকে, ওড়িশা বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়ার কথা জানালেও নির্দিষ্ট সংখ্যা দিতে পারেনি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিদেশি ভোটারদের নিয়ে আলাদা করে কোনও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ তারা রাজ্যগুলিকে দেয়নি।
এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে ফেরত পাঠানো এবং ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার কথা বলে এসআইআর চালু করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকাশিত তথ্য সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না।
রমেশের অভিযোগ, এসআইআর আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। নির্বাচন কমিশন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বিদেশি নাগরিক শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় এত কম সংখ্যক মানুষের সন্ধান মেলায় এসআইআরের প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


