উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তার আগে রাজ্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে তৎপর হয়েছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই দলের রাজ্য কর্মসমিতিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছেন নতুন সভাপতি পঙ্কজ চৌধরী। আর সেই নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলার মুখে পড়া প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ। এই পদ পাওয়ার পর প্রথম বার রাজ্য বিজেপির কর্মসমিতিতে সদস্য হলেন তিনি।
শুক্রবার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কর্মসমিতির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে ভোটের পরিকল্পনা, সংগঠনের কাজ এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তার ঠিক আগেই ব্রিজভূষণকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটিতে রাখা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা কুস্তিগির যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে বসেছিলেন বজরং পুনিয়া, বিনেশ ফোগাট ও সাক্ষী মালিকের মতো দেশের পরিচিত কুস্তিগিরেরা। তাঁদের দাবি ছিল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
তবে গত ৩ অগস্ট দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। একই মামলায় ব্রিজভূষণের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিনোদ তোমরকেও মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি আগে ভারতীয় কুস্তি সংস্থার সহ-সচিব ছিলেন।
কিন্তু আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি অভিযোগকারী কুস্তিগিরেরা। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। গত ২৮ অক্টোবর বিচারক ডি বিনয় সিংহ সেই আবেদন গ্রহণ করেন। পাশাপাশি, এক সপ্তাহের মধ্যে ব্রিজভূষণকে নিজের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
উল্লেখ্য, অভিযোগ সামনে আসার পর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্রিজভূষণকে আর প্রার্থী করেনি বিজেপি। তাঁর বদলে কায়সরগঞ্জ কেন্দ্র থেকে ছেলে করণভূষণ সিংহকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ওই কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ। এবার রাজ্য কর্মসমিতিতে ব্রিজভূষণের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।


